শিলিগুড়ির শালবাড়িতে একটি প্যারামেডিক্যাল ও নার্সিং প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে কেন্দ্র করে বড়সড় জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানের 'ভোল বদল' বা নাম ও ধরন পরিবর্তন করা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়, যা শেষ পর্যন্ত পুলিশি হস্তক্ষেপে গড়ায়।
স্থান ও তারিখ: শিলিগুড়ি, ৮ ফেব্রুয়ারি (শনিবার)।
মূল অভিযোগ: অভিযোগ উঠেছে যে, ওই প্রতিষ্ঠানটি আগে প্যারামেডিক্যাল ও নার্সিং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। শিক্ষার্থীরা সেখানে লক্ষাধিক টাকা খরচ করে নার্সিং বা প্যারামেডিক্যাল কোর্সে ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই প্রতিষ্ঠানটি তার নাম বদলে 'ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার' হিসেবে নিজেদের প্রচার করতে শুরু করে।
শিক্ষার্থীদের দাবি: শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাদের থেকে প্যারামেডিক্যাল কোর্সের কথা বলে টাকা নেওয়া হলেও এখন তাদের ভোকেশনাল বা কারিগরি কোর্সের সার্টিফিকেট দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
প্রতারণার মাত্রা: ভর্তি হওয়া ছাত্রছাত্রীদের দাবি অনুযায়ী, অনেক ছাত্রের কাছ থেকে কয়েক লক্ষ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। অথচ বিনিময়ে যথাযথ প্রশিক্ষণ বা চাকরির সুযোগ—কিছুই মিলছে না।
গ্রেফতার: পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ওই প্রতিষ্ঠানের তিনজন কর্মকর্তাকে আটক বা গ্রেফতার করেছে। এর মধ্যে একজন মহিলার নামও উঠে এসেছে।
প্রতিষ্ঠানে তালা: উত্তেজনার জেরে শনিবার প্রতিষ্ঠানের গেটে ছাত্রছাত্রীরা বিক্ষোভ দেখান এবং বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত: শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আর্থিক প্রতারণা এবং প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বা বৈধতা নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের মতে, "আমরা নার্সিং পড়ার জন্য ভর্তি হয়েছিলাম, কিন্তু এখন দেখছি আমাদের পরিচয় বদলে দেওয়া হয়েছে। আমাদের আইডি কার্ড এবং লেটারহেডেও কারচুপি করা হয়েছে।"