ফুলবাড়ীতে সিভিক ভলান্টিয়ারের রহস্যজনক মৃত্যুতে তীব্র বিক্ষোভ ছড়িয়েছে

Rupan Baidya 🕒 09 Feb 2026, 10:52 AM | 👁️ 5 বার দেখা হয়েছে

শিলিগুড়ির ফুলবাড়ি ১২ তম পুলিশ ব্যাটালিয়নে ট্রেনিং চলাকালীন পঙ্কজ বর্মন নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ারের রহস্যজনক মৃত্যুতে তীব্র বিক্ষোভ ছড়িয়েছে। কোচবিহারের মাথাভাঙা থানার ওই সিভিক ভলান্টিয়ার সোমবার সকালে মৃত অবস্থায় উদ্ধার হন। অতিরিক্ত কাজের চাপ ও গাফিলতির অভিযোগ তুলে এবং মৃত্যুর সঠিক তদন্তের দাবিতে অন্য ভলান্টিয়াররা ব্যারাকে বিক্ষোভ দেখান। 

এই ঘটনার মূল দিকগুলো হলো:
মৃতের পরিচয়: মাথাভাঙা থানার সিভিক ভলান্টিয়ার পঙ্কজ বর্মন (বয়স প্রায় ৪০) ফুলবাড়ির ১২ তম ব্যাটালিয়নে ট্রেনিংয়ে এসেছিলেন।

বিক্ষোভের কারণ: সহকর্মীদের অভিযোগ, অতিরিক্ত মানসিক ও কাজের চাপে তার মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া, সঠিক চিকিৎসার ব্যবস্থা না করা এবং অ্যাম্বুলেন্স পেতে দেরির অভিযোগ তুলে ব্যারাকের সামনে বিক্ষোভ দেখান অন্য সিভিক ভলান্টিয়াররা।

পরিস্থিতি: এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে, ঘটনাস্থলে বড় পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

তদন্ত: পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং ঘটনার কারণ উদঘাটনে তৎপর রয়েছে। 

পঙ্কজ বর্মন সুস্থ ও সুশৃঙ্খল হিসেবে পরিচিত ছিলেন, তাই এই হঠাৎ মৃত্যুতে সহকর্মীরা হতভম্ব ও ক্ষুব্ধ। 

সহকর্মীদের ক্ষোভ শুধু পঙ্কজবাবুর মৃত্যুর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এই ঘটনা দীর্ঘদিনের জমে থাকা কিছু সমস্যার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে:

চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ: বিক্ষোভকারীদের মূল দাবি ছিল যে, পঙ্কজ বর্মন অসুস্থ বোধ করার পর তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য কোনো পরিকাঠামো পাওয়া যায়নি। এমনকি ক্যাম্পের ভেতর থেকে অ্যাম্বুলেন্স পেতে দীর্ঘ সময় নষ্ট হয়েছে বলে তারা দাবি করছেন।

ব্যাটালিয়ন গেটে অবস্থান: সহকর্মীরা ট্রেনিং ছেড়ে ব্যারাকের গেটে জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। তাদের দাবি, পুলিশ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে এই মৃত্যুর সঠিক ব্যাখ্যা এবং দায়ীদের শাস্তি দিতে হবে।

পুলিশ প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য
ঘটনাটি নিয়ে উত্তেজনা ছড়ালে শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেট এবং ব্যাটালিয়ন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কিছু প্রাথমিক বিষয় জানানো হয়েছে:

অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা: পুলিশ আপাতত একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর (UD Case) মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। প্রশাসনের দাবি, আইন অনুযায়ী সব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার: অ্যাম্বুলেন্স পেতে দেরি বা চিকিৎসার অভাবের যে অভিযোগ সহকর্মীরা তুলেছেন, পুলিশ প্রাথমিকভাবে তা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিলেও সরাসরি কোনো গাফিলতি স্বীকার করেনি। তাদের মতে, অসুস্থ বোধ করার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

শৃঙ্খলার বার্তা: বিক্ষোভ সামাল দিতে গিয়ে পুলিশ আধিকারিকরা সিভিক ভলান্টিয়ারদের আশ্বস্ত করেছেন যে, কারো কোনো অভিযোগ থাকলে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো যাবে, কিন্তু ট্রেনিংয়ের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করা উচিত নয়।

ট্রেনিং ও কাজের পরিবেশ নিয়ে অভিযোগ
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে সিভিক ভলান্টিয়ারদের ট্রেনিংয়ের ধরন নিয়ে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে:

অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম: অভিযোগ উঠেছে যে, হাড়কাঁপানো ঠান্ডার মধ্যেও ভোরে উঠে কঠোর শারীরিক কসরত করানো হচ্ছিল। অনেকের দাবি, বয়স এবং শারীরিক সক্ষমতা বিচার না করেই সবার ওপর একই ধরনের পরিশ্রম চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

মানসিক চাপ: ট্রেনিং চলাকালীন দীর্ঘ সময় ডিউটি এবং কঠোর অনুশাসনের ফলে অনেকেই মানসিকভাবে বিধ্বস্ত থাকছেন বলে বিক্ষোভকারীরা জানান।

বাসস্থানের পরিবেশ: ১২ নম্বর ব্যাটালিয়নে থাকা এবং খাওয়ার মান নিয়েও কিছু ভলান্টিয়ার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব এই ধরনের দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিচ্ছে।

ময়নাতদন্তের আপডেট:

পঙ্কজ বর্মনের মৃতদেহ উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছিল। ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়ায় যে বিষয়গুলো সামনে এসেছে:

প্রাথমিক অনুমান: চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, এটি হৃদরোগ (Cardiac Arrest) হতে পারে। অতিরিক্ত পরিশ্রম বা প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে এই ধরনের শারীরিক সমস্যা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

ভিসেরা রিপোর্ট: মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে শরীরের কিছু নমুনা (ভিসেরা) ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হতে পারে, যাতে বিষক্রিয়া বা অভ্যন্তরীণ অন্য কোনো সমস্যা ছিল কি না তা স্পষ্ট হয়।

পরিবারকে হস্তান্তর: ময়নাতদন্ত শেষে মৃতদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। কোচবিহারের মাথাভাঙা থানার পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসন পঙ্কজবাবুর শেষকৃত্যের বিষয়ে সহযোগিতা করছে।

বর্তমান অবস্থা
এই ঘটনার পর ওই ট্রেনিং ক্যাম্পে পরিবেশ কিছুটা থমথমে। সহকর্মীদের দাবি অনুযায়ী, ভবিষ্যতে ট্রেনিং চলাকালীন যেন পর্যাপ্ত মেডিকেল টিম এবং সার্বক্ষণিক অ্যাম্বুলেন্স মজুত থাকে, সে বিষয়ে প্রশাসন চিন্তাভাবনা করছে বলে জানা গেছে।