বুধবারের নজিরবিহীন শুনানির পর সোমবার ফের সুপ্রিম কোর্টে উঠতে চলেছে বহুচর্চিত SIR (Special Intensive Revision) মামলা। প্রশ্ন এখন একটাই—এদিনও কি সুপ্রিম কোর্টে দাঁড়িয়ে নিজেই সওয়াল করবেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? রাজনৈতিক মহল থেকে প্রশাসনিক স্তর—সব জায়গাতেই এই জল্পনা ঘিরে তুঙ্গে উত্তেজনা।
গত বুধবার দেশের বিচার ইতিহাসে এক বিরল ঘটনার সাক্ষী থেকেছে সুপ্রিম কোর্ট। নিজের দায়ের করা মামলায় নিজেই সওয়াল করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও কর্মরত মুখ্যমন্ত্রী সুপ্রিম কোর্টে ব্যক্তিগতভাবে দাঁড়িয়ে নিজের মামলার পক্ষে যুক্তি পেশ করেন বলে জানা যায়।
SIR প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের এই প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষ, বিশেষত প্রবীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সমস্যার মুখে পড়ছেন।
সোমবার দুপুর দু’টোর সময় প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি এন ভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চে মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা। এই শুনানিকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন করে চাপানউতোর।
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী কটাক্ষ করে বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর আদালতে যাওয়ার বিষয়টি রাজনৈতিক নাটক ছাড়া কিছু নয়। অন্যদিকে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী নিজে মামলা করায় নির্বাচন কমিশনকে একাধিক ক্ষেত্রে অবস্থান বদলাতে হয়েছে।
এদিকে সিপিএমের অন্দরেও ভিন্ন সুর শোনা যাচ্ছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছেন, যদিও সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী এটিকে ‘লোক দেখানো’ বলেই কটাক্ষ করেন।
বুধবারের শুনানিতে নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় কর্মী না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছিল। সেই প্রেক্ষিতেই PTI সূত্রে খবর, রাজ্য সরকার কমিশনকে জানিয়েছে SIR-এর কাজে ৮ হাজার ৫০৫ জন গ্রুপ-বি অফিসার দিতে তারা প্রস্তুত। সুপ্রিম কোর্টও আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিল, পর্যাপ্ত রাজ্য আধিকারিক পাওয়া গেলে মাইক্রো-অবজারভারদের প্রয়োজন কমতে পারে।
এই পদক্ষেপকে মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক অগ্রগতি বলেই মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলে জল্পনা থাকলেও সূত্রের খবর, সোমবারের শুনানিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরাসরি আদালতে উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা কম। তবে তিনি ভার্চুয়াল মাধ্যমে শুনানিতে যোগ দিতে পারেন বলে জানা যাচ্ছে।
SIR মামলাকে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের দ্বন্দ্ব এখন সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণে। ফলে সোমবারের শুনানি শুধু আইনি দিক থেকেই নয়, রাজনৈতিকভাবেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।