তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সফরের প্রথম দিনেই সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মহলে কড়া বার্তা দিলেন তিনি। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মোদী স্পষ্ট করে দেন যে, মানবতার স্বার্থে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে ভারত কোনোদিন আপস (Compromise) করেনি এবং করবেও না।
সফরের মেয়াদ ও উদ্দেশ্য
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এই সফর মূলত ৩ দিনের। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সাথে ভারতের 'অ্যাক্ট ইস্ট' (Act East) নীতিকে আরও শক্তিশালী করাই এই সফরের প্রধান লক্ষ্য।
বৈঠকের প্রধান আলোচ্য বিষয়সমূহ:
১. সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদ দমন: সন্ত্রাসবাদের কোনো ধর্ম হয় না—এই বার্তা দিয়ে মোদী বলেন, সাইবার ক্রাইম এবং উগ্রপন্থা রুখতে ভারত ও মালয়েশিয়া যৌথভাবে কাজ করবে। দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের বিষয়েও বড় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
২. প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা: দক্ষিণ চীন সাগরে শান্তি বজায় রাখা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে যৌথ মহড়া এবং সামরিক প্রযুক্তি বিনিময়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
৩. বাণিজ্য ও সেমিকন্ডাক্টর: মালয়েশিয়া থেকে পাম তেল আমদানির পাশাপাশি ভারত মালয়েশিয়ায় ইউপিআই (UPI) পেমেন্ট সিস্টেম চালু করার প্রস্তাব দিয়েছে। এছাড়াও ডিজিটাল ইকোনমি, সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং এবং এআই (AI) প্রযুক্তিতে একে অপরকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।
৪. ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের স্বার্থ রক্ষা: মালয়েশিয়ায় বসবাসরত কয়েক লক্ষ ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষের কর্মসংস্থান এবং তাঁদের সাংস্কৃতিক অধিকার রক্ষা করার বিষয়েও মালয়েশিয়া সরকারের সাথে সদর্থক আলোচনা হয়েছে।
কূটনৈতিক গুরুত্ব
বিশেষজ্ঞদের মতে, মালয়েশিয়ার মাটিতে দাঁড়িয়ে মোদীর এই 'সন্ত্রাস-বিরোধী' মন্তব্য আসলে প্রতিবেশী দেশগুলোকেও একটি প্রচ্ছন্ন বার্তা। মোদী জানিয়েছেন, "সন্ত্রাসবাদ রুখতে কোনো 'ইফ এন্ড বাট' (Ifs and Buts) রাখা চলবে না; বিশ্বকে একজোট হতেই হবে।"